- Celebration of Guru Purnima -
Guest Column
Buddhadeb Gorai
Assistant Professor
Deshbandhu College for Girls
ভূমিকা
“গুরুব্রহ্মা
গুরুর্বিষ্ণুঃ গুরুর্দেবো মহেশ্বরঃ।
গুরুঃ সাক্ষাৎ পরব্রহ্ম তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ॥”
ভারতীয়
আধ্যাত্মিক পরম্পরায় ‘গুরু’ শব্দটি কেবল শিক্ষক বা জ্ঞানদাতার পরিচয় নয়; বরং তিনি
সেই আলোকিত সত্তা, যিনি অজ্ঞতার ঘনঘোরে জ্বালিয়ে দেন চেতনার দীপ্ত শিখা।
বাহ্যজ্ঞান নয়, তিনি অন্তর্জ্ঞানের দিশারি—আত্ম-উন্মোচনের কর্ণধার। আষাঢ় মাসের
পূর্ণিমা তিথিতে পালিত ‘গুরু পূর্ণিমা’ এটি গুরু-শিষ্য সম্পর্কের চিরন্তন চেতনার
এক প্রজ্জ্বলিত অনুরণন, যেখানে প্রণতি রূপ নেয় প্রজ্ঞার দ্বাররক্ষী, আর শ্রদ্ধা
হয়ে ওঠে আত্মসন্ধানের একাগ্র সংকল্প।
এই পবিত্র
দিনটি শুধুই আনুষ্ঠানিকতার আড়ম্বর নয়, বরং এটি এক আত্মশুদ্ধির ব্রত, এক
অন্তর্জাগরণের তপস্যা। এর উৎস নিহিত রয়েছে ঋগ্বেদ, উপনিষদ, শ্রীমদ্ভগবদগীতা,
যোগশাস্ত্র, তন্ত্র ও স্মৃতিগ্রন্থসমূহের অন্তঃস্থলে—যেখানে গুরু হয়ে ওঠেন মানবিক
সম্ভাবনার সর্বোচ্চ প্রকাশ।
‘গুরু’ কে?
‘গুরু’ শব্দটি কেবল একটি সম্বোধন
নয়—এটি এক বহুরূপী জীবনদর্শনের প্রতীক। সংস্কৃত ব্যুৎপত্তিতে—
“গুঃ অন্ধকারং, রুঃ নাশকঃ।
গুরুঃ অন্ধকারনাশকঃ।”
— স্কন্দ পুরাণ
অর্থাৎ ‘গু’
মানে অন্ধকার, ‘রু’ মানে সেই শক্তি যা অন্ধকার বিনাশ করে। গুরু সেই ব্যক্তি যিনি
অবিদ্যার অন্ধকার দূর করে জ্ঞানের দীপ্তি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে গুরুতত্ত্ব কেবল
ব্যুৎপত্তিগত ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। গুরু হলেন সেই সত্তা, যিনি নিজের
আত্মপ্রকাশকে শিষ্যের অন্তরলোকে জাগিয়ে দেন। তিনি নিঃস্বার্থ, আত্মজ্ঞ,
আলোকসম্পন্ন; নিজেকে জ্বালিয়ে অন্যকে জ্ঞানের দীপ্তিময় পথে চালিত করেন।
মুন্ডক উপনিষদে বলা হয়েছে—
“তদ্বিজ্ঞানার্থং স গুরুমেবাভিগচ্ছেত্
সমিত্পাণিঃ শ্রোত্রিয়ং ব্রহ্মনিষ্ঠম্।”
(মুন্ডক উপনিষদ ১.২.১২)
অর্থাৎ আত্মতত্ত্ব বা ব্রহ্মজ্ঞানের
জন্য সেই শিষ্যকে গুরুর শরণ নিতে হবে, যিনি শ্রোত্রিয় (শাস্ত্রজ্ঞানসম্পন্ন) ও
ব্রহ্মনিষ্ঠ (আত্মসন্ধানে স্থিত)।
এই গুরু কেবল তথ্যদাতা নন, তিনি
শিষ্যের চেতনার গভীরে জ্ঞানের দীপ জ্বালিয়ে দেন। তাই গুরু হচ্ছেন—
•
জ্ঞানের বাহক,
•
তত্ত্বের রক্ষক,
•
চেতনার জাগরণকারী।
তিনি শিষ্যকে আলোর পথে, অমৃতের
পথে—‘অসতো মা সদ্ গময়’—নিয়ে যান।
ব্যাসদেব ও গুরু পূর্ণিমার ঐতিহাসিক
শিকড়
গুরু পূর্ণিমার
প্রাচীন রূপ 'ব্যাস পূর্ণিমা'— যা ভারতীয় জ্ঞানধারা ও সাহিত্যের অন্তঃস্থ
কেন্দ্রে রচিত এক শ্রদ্ধার প্রস্তাবনা। এই দিনে আমরা স্মরণ করি সেই অসাধারণ
ঋষিকে—মহর্ষি বেদব্যাস—যিনি জ্ঞানকে কেবল ধারণ করেননি, বরং তাকে সংহত করে লোকজ
উপলব্ধির উপযোগী করে তুলেছেন।
বেদব্যাস—কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন—ছিলেন পরাশর
ঋষি ও সত্যবতীর পুত্র।
তাঁর কীর্তিসমূহঃ
• চার
বেদের সংকলন,
• ব্রহ্মসূত্র
রচনা,
• মহাভারতের
মহাকাব্য সৃজন,
• ঊনিশটি
পুরাণ ও উপপুরাণের সংকলন।
এই আষাঢ়ী পূর্ণিমাতেই তাঁর জন্ম
হয়েছিল বলে শাস্ত্রমতে বিশ্বাস। সেই কারণে শিষ্যসমাজ এ দিন ব্যাসদেবকে
গুরুপরম্পরার আদিগুরু হিসেবে পূজা করে। সময়ের সঙ্গে ব্যাস পূর্ণিমা রূপান্তরিত হয়
গুরু পূর্ণিমায়—যেখানে ব্যাসদেব হয়ে ওঠেন সমস্ত গুরু-তত্ত্বের উৎসস্থল।
গুরু-শিষ্য সম্পর্কের গূঢ়তা
ভারতীয় আধ্যাত্মিক পরম্পরায়
‘গুরু-শিষ্য’ সম্পর্ক কেবল জ্ঞান-বিনিময়ের নয়—এটি আত্মা ও চৈতন্যের এক দীক্ষিত
সংলাপ।
এই সম্পর্ক তিনটি স্তম্ভে স্থাপিত—
• প্রণিপাত
(বিনম্র আত্মসমর্পণ),
• পরিপ্রশ্ন
(সতত অন্বেষা),
• সেবা
(নির্বিচার নিষ্ঠা)।
শ্রীমদ্ভগবদগীতায় (৪.৩৪) বলা হয়েছে—
“তদ্বিদ্ধি প্রণিপাতেন পরিপ্রশ্নেন সেবয়া।
উপদীক্ষ্যন্তি তে জ্ঞানং জ্ঞানিনস্তত্ত্বদর্শিনঃ॥”
অর্থাৎ, সত্যদ্রষ্টা গুরুর নিকট যেতে
হবে প্রণতিসহকারে, শ্রদ্ধাসহকারে প্রশ্ন করে, সেবার মাধ্যমে নিবেদন জানিয়ে—তাহলেই
তিনি তত্ত্বজ্ঞান দান করবেন।
শ্বেতাশ্বতর উপনিষদের ভাষায়—
“যস্য দেৱে পরা ভক্তিঃ তথা দেৱে তথা গুরৌ।
তস্যৈতে কথিতা হ্যর্থাঃ প্রকাশন্তে মহাত্মনঃ॥”
— শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ ৬.২৩
অর্থাৎ, যাঁর ঈশ্বর ও গুরুর প্রতি
সমান ভক্তি রয়েছে, তিনিই প্রকৃত শাস্ত্রজ্ঞানের অধিকারী।
এই শ্লোকগুলি গুরু-শিষ্য সম্পর্কের
দার্শনিক গভীরতা উন্মোচন করে—গুরু কেবল শিক্ষক নন, ঈশ্বরপ্রতিম তত্ত্বদ্রষ্টা,
যাঁর কাছ থেকে জ্ঞান আহরণ মানে আত্মদীক্ষা ও চেতনার বিবর্তন।
গুরুকুল থেকে
শাস্ত্রীয় গুরুতত্ত্ব
ভারতের প্রাচীন
শিক্ষাব্যবস্থা—গুরুকুল—ছিল কেবল বিদ্যা অর্জনের ক্ষেত্র নয়; এটি ছিল আত্মশিক্ষার
এক অভিন্ন, ধ্যানমগ্ন ক্ষেত্র, যেখানে শিক্ষা মানে ছিল চরিত্রগঠন, আত্মশাসন ও
চেতনার প্রসার। এখানে শিক্ষা ছিল সহাবস্থানমূলক—গুরুর সান্নিধ্যে, তাঁর প্রতিদিনের
জীবনের মধ্য দিয়ে, ধ্যান-সেবা-সংযমের ধারায়।
এই ধারায় গুরু কেবল জ্ঞানদাতা নন,
তিনি ছিলেন আত্মিক জীবনের আদর্শ, দেহ ও মনের সাধনার পথপ্রদর্শক। উপনিষদের ভাষায়—
“আচার্যবান্ পুরুষো বেদ।”
— ছান্দোগ্য উপনিষদ (৬.১৪.২)
অর্থাৎ, যাঁর জীবনে আচার্য বা গুরু
আছেন, তিনিই প্রকৃতভাবে জ্ঞান উপলব্ধি করতে সক্ষম।
শিব-পার্বতীর সংলাপে সংকলিত স্কন্দ
পুরাণের ‘শ্রীগুরু গীতা’-য় গুরুতত্ত্বকে উপস্থাপন করা হয়েছে এক সর্বব্যাপী,
ঐশ্বরিক মহাশক্তি হিসেবে—
“গুরুর্ ব্রহ্মা গুরুর্ বিষ্ণুঃ গুরুর্ দেবো মহেশ্বরঃ।
গুরুঃ সাক্ষাৎ পরব্রহ্ম তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ॥”
এটি কেবল এক স্তোত্র নয়—গুরুর আত্মিক
অবস্থানের স্বীকৃতি। গুরু কেবল জ্ঞান জানেন না—তিনি নিজেই জ্ঞানতত্ত্বরূপ।
গুরুকুল প্রথায় এই গুরু-শিষ্য সম্পর্ক
ছিল একেবারে ঘনিষ্ঠ ও সহজ। শিষ্য কেবল পাঠ্য নয়, বরং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে,
গুরুর আচরণে, বাক্যে, নীরবতায় শিক্ষালাভ করত। এই শিক্ষা ছিল অ-পরীক্ষানির্ভর,
অ-পাঠ্যসূচিবদ্ধ; এটি ছিল এক অন্তর্জ্ঞানময়, ব্যতিক্রমী জীবনযাত্রার সাধনা।
যোগ-তন্ত্রে
গুরু
যোগ ও তন্ত্র—এই দুই সাধনাপথে গুরু
হয়ে ওঠেন কেবল নির্দেশক নন, তিনি নিজেই সেই চেতনার উৎস, যার থেকে আত্মোদ্ভব ঘটে।
যোগসূত্রে পতঞ্জলি বলেন—
“স পূর্বেষামপি গুরুঃ কালেনানবচ্ছেদাৎ॥”
— যোগসূত্র ১.২৬
অর্থাৎ, ঈশ্বরই আদিগুরু, যিনি কালের
সীমা ছাড়িয়ে চিরন্তনভাবে সমস্ত ঋষি ও যোগীর হৃদয়ে চৈতন্যরূপে বর্তমান। এই
ঈশ্বর-গুরু—নিঃশব্দ, কিন্তু সর্বত্র গূঢ়, অন্তর্জ্ঞানে দীপ্ত।
তন্ত্রশাস্ত্রে গুরু হলেন মন্ত্রদাতা,
দীক্ষাগুরু, শক্তিপ্রবর্তক। তিনি কেবল তত্ত্ব শেখান না; বরং কুণ্ডলিনী জাগরণের
মধ্য দিয়ে শিষ্যের আত্মবোধ ও রূপান্তরের সূচনা করেন।
“গুরুং বিনা ন সিদ্ধিঃ স্যাৎ সর্বত্র
নাত্র সংশয়ঃ॥”
— তন্ত্রসার
অর্থাৎ, গুরুর অনুগ্রহ ব্যতীত
আধ্যাত্মিক সিদ্ধি সম্ভব নয়। কারণ তন্ত্রে জ্ঞান হল চৈতন্য-প্রবাহ—যা কেবল দীক্ষার
মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়।
শ্রীগুরু গীতায় বলা হয়—
“ন গুরুঃ ন পিতা মাতা, ন বন্ধুঃ
ন পতিস্তথা।
যঃ সত্যং ব্ৰুহতি প্রীত্যা, স গুরুঃ সত্যদর্শিনঃ॥”
— শ্রীগুরু গীতা
অর্থাৎ, যিনি হৃদয় থেকে সত্য উপলব্ধি করেন
এবং তা স্নেহসহকারে প্রকাশ করেন—তিনিই প্রকৃত সত্যদর্শী গুরু, পিতা, মাতা, বন্ধু
বা পতিও সেই গুরুতুল্য নন।
যোগ ও তন্ত্র উভয় ধারায় গুরু
দীক্ষাদাতা, চেতনা-উন্মোচক এবং মোক্ষের সহযাত্রী। তিনি কেবল দিগ্দর্শক নন—তিনি
নিজেই পথ, তিনি নিজেই গন্তব্য।
গুরু পূর্ণিমার
আচরণ ও প্রথা: বাহ্য আচার থেকে অন্তর্নিহিত আত্মশুদ্ধি
গুরু পূর্ণিমা কেবল আনুষ্ঠানিক দিবস
নয়—এটি এক নিঃশব্দ আত্মনিবেদনের মুহূর্ত, যেখানে বাহ্যিক প্রণতি রূপ নেয় অন্তরের
আত্মসমর্পণে।
এই দিনে ফল, পুষ্প, দীক্ষাদক্ষিণা
ইত্যাদি উপাচার কেবল উপহার নয়—এগুলি অন্তরের কৃতজ্ঞতার প্রতীক।
গুরুস্তোত্র পাঠ, গুরুপরম্পরার শ্রবণ,
ও গুরু-চরণে ধ্যান—এই সবকিছু শিষ্যকে স্মরণ করায়, তিনি কার আশ্রয়ে চলেছেন, এবং
তাঁর চৈতন্য কোথায় নিবদ্ধ।
“নাভিবাদয়েত্ গুরুং, ন নমন্তি সদা
গুরুং।
যত্র কুত্র ন তিষ্ঠন্তি, গুরুঃ সর্বত্র সর্বদা॥”
— স্মৃতিশাস্ত্র
অর্থাৎ, গুরু কেবল বাহ্যিক সত্তা
নন—তিনি সর্বত্র, চেতনার প্রতিটি স্তরে, চিরকাল বর্তমান।
এই উপলব্ধিই গুরু পূর্ণিমার
অন্তর্নিহিত সাধনা—যেখানে প্রণতি মানে আত্মদীক্ষা, আর বাহ্য আচরণ রূপ নেয়
চৈতন্যানুশীলনে।
এই দিনটি হয়ে ওঠে—
• আত্মস্মরণের
নিঃশব্দ প্রহর,
• শিষ্যত্বের
গভীর প্রতিজ্ঞা,
• এবং
গুরুতত্ত্বের অন্তর্জ্যোতির আবাহন।
উপসংহার
গুরু পূর্ণিমা নিছক কোনও পূজা বা
আচারানুষ্ঠান নয়—এটি এক আত্মদীক্ষার উজ্জ্বল প্রহর, আত্মসংশোধনের এক নিরব তপস্যা,
যার অন্তরালে জ্বলজ্বল করে চৈতন্যের অনন্ত দীপশিখা।
অর্থাৎ, এই দিন আমাদের স্মরণ করিয়ে
দেয়—গুরু হলেন সেই,
“যিনি আমাদের কী ভাবতে হবে তা শেখান
না, বরং কীভাবে ভাবতে হয়, তা জাগিয়ে তোলেন।”
তাঁর আশ্রয়ে জ্ঞান হয়ে ওঠে অন্তর্জ্ঞান, শিক্ষা রূপ নেয় সাধনায়, আর প্রণতি পরিণত
হয় অন্তরের নিবেদনে।
গুরুস্তোত্রে বলা হয়েছে—
“অজ্ঞানতমিরান্ধস্য
জ্ঞানাঞ্জনশলাকয়া।
চক্ষুরুন্মীলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে
নমঃ॥”
অর্থাৎ, “যিনি জ্ঞানের অঞ্জন দ্বারা অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে নয়ন খুলে দেন—তাঁকে
আমি প্রণাম করি।”
এই এক পংক্তিতে গুরুতত্ত্বের সারমর্ম
স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গুরু হলেন সেই—
• যিনি অন্ধতার ঘন অরণ্যে জ্বালিয়ে
দেন চেতনার দীপ,
• যিনি প্রজ্ঞার অঞ্জনে খুলে দেন
অন্তর্দৃষ্টি,
• যিনি শিষ্যের বুকে জাগিয়ে তোলেন
আত্মসন্ধানের পবিত্র আকাঙ্ক্ষা।
গুরু পূর্ণিমা তাই শুধুই একটি উৎসব নয়—এটি
চেতনার দীপ্ত জাগরণ। এই দিনে আমরা প্রণতি জানাই এমন এক পথপ্রদর্শককে, যিনি কেবল
বাহিরের আলোক নন—তিনি হৃদয়ের অন্তরতম স্থানে জ্বলে থাকা এক শাশ্বত প্রদীপ।
আজকের দিনে, আসুন আমরা কেবল গুরুর চরণে
নয়, বরং হৃদয়ের গভীরে, জীবনের প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসে স্থাপন করি সেই
গুরুতত্ত্বকে—
• যিনি সময়ের স্রোতে চেতনার পাথেয়,
• যিনি প্রজ্ঞার আলোক,
• যিনি আত্মজ্ঞানের মৌন মূর্তী
• যিনি আমাদের চালনা করেন সত্যের
দিকে।
---------

No comments:
Post a Comment