সখী পরকিয়া কারে কয়?

Guest Column

A relationship commentary

Amritakana Majumder

Author & Teacher

Pexels


সেদিন হঠাৎ ইনস্টাগ্রামে একজন ভদ্রমহিলা আমার ইনস্টা প্রোফাইলের একটি ছবির স্ট্যাটাসে কমেন্ট করে বসলেন, আচ্ছা, আপনি কি পরকীয়াতে বিশ্বাসী? কি মনে হয় আপনার এসব কি ঠিক? আজন্ম প্রেমে বিশ্বাসী আমি অযথা এমন প্রশ্নে বেশ বিরক্ত হয়েই মহিলাকে আনফলো করলাম। ভালোবাসার আবার বিশ্বাস - অবিশ্বাস কি? এর আবার বৈধ - অবৈধতাই বা কিসের? একটা ছবির স্ট্যাটাসের কিছু কথা থেকে এসব নিয়ে আমি ভাবতে পারি এমনটাই বা স্থির করলো কে? কেমন যেনো ভাবালো। সেই রাধা - কৃষ্ণের প্রেমের পরেও লোকের এই ধরণের প্রেম নিয়েই যেনো যত আড়িপাতা, কানাকানি, পরকীয়া নামটাতে আপত্তি থাকলেও আসলে নামকরণের সার্থকতাই আমার মনে হল, পরের সঙ্গে ক্রিয়া, এ ক্রিয়া তো আসছেই কোনো প্রতিক্রিয়ার কারণে। ধরুন যে বয়সে লোকে বুড়িয়ে যায়, ঠিক সে বয়সটাতেই কেউ বুড়োলো না, তার বাচ্চাখেয়াল দিন দিন প্রগাঢ়ভাবে ফিরে এলো তখন সে যদি একটু সেই আগের দিনগুলোর মতো বেঁচে নেয় ক্ষতি কি তাতে? আসলে তার চারপাশটা আদপেই বুড়িয়ে গিয়েছে, একঘেয়ে হয়ে গিয়েছে। সে তিতার রস ভেবে রোজ রোজ সে সব খেয়ে নিয়েও হঠাৎ একদিন সে হয়তো আর পারছেনা। সে সময় হঠাৎ যদি একটা গোটা সন্ধ্যায় তার বৃষ্টিতে ভেজবার সুযোগ হয়, কারো সাথে মাইলখানেক পথ একসাথে চলবার সুযোগ হয় সে কি নেবে না সে সুযোগ। সে যে ভেজেনি কতদিন এভাবে। 


ফেসবুকের খুব সামান্য জাজের পোজের ছবিতে একটা কমেন্টে তার যদি আবার যদি নতুন করে নিজেকে ভালোবাসে চোখে আটকে যায় ক্ষতি কি বলুন? দিল তো বাচ্চা হ্যায় মানেই কাচ্চা। অর্থাৎ কাঁচা কাজ। এখন বিষয় হল এ প্রেমের সমাপন পরিনতি হীন। তাই মন খারাপ, অহেতুক কান্না। কিন্তু আমরা কি কবে কোন কাজ তার ভবিষ্যৎভেবে করেছি বলুন তো? বৈধ একটা বিয়েরও কি সবসময় সুন্দর পরিণতি হয়? তবুও তো তাকে লালন করে চলি আমরা। ভালোবাসার আবার আপন,পর বৈধ - অবৈধ কি? যারে ভালোবাসা যায় সে কি আর পর থাকে? সে যে নিজের এক্কেবারে আপন হয়ে যায়। হয়তো তাকে পাশে নিয়েই চলে একঘেয়ে দিনগুলোর যাপন। তা যে একটা গান আছে না, সে আসবে বলে তাই আমি স্বপ্ন দেখে যাই। জরুরী আসলে ঐ স্বপ্ন দেখা। যেটা দেখতে গিয়ে কেউ একজন খুব করে জীবনের একটা ক্ষুদ্র সময় খুব করে বেঁচে নিল, ভালোবাসার এই যে অমোঘ চাহিদা তার মনে ধরে নিতে হবে তার মানে যোগান কম। তা যদি একজন মানুষের হাত ধরে মেটে তাতে ক্ষতি কি? কেন সমাজের নিন্দে মন্দ? কেন হাজারো তীর, বেঁকা প্রশ্ন। কে ঠকায় কাকে? যে বছর বছর ঠকে এসেছে সে ঠকাবে কাকে? তবে হ্যাঁ সমস্যাটা অন্য জায়গায়। এই যে পরকীয়া তা কি ভালোবাসা, মন, স্বপ্নের রঙিন পাখনা? নাকি সবটুকুই ঐ চাহিদা মেটা অবধি? তারপরেই কি শেষ সব ? এই যে দুজনের ভালোলাগায় বেশ কিছু সুন্দর মুহূর্ত তৈরি হল, তা কি কেবল চাহিদাটুকু মিটলেই শেষ? আর তার কোনো অণুরনন নেই? আমি বলি আছে। 


সত্যিকারের পরকীয়ায় আছে। সত্যিকারের পরকীয়া একে অপরকে সমৃদ্ধ করে। পাশে থাকে। একঘেয়ে জীবনটাকে প্রতি পদক্ষেপে সুন্দর করে। আসলে এই যে আমাদের একা হয়ে স্বার্থপরের মতো খুব নিজের চাহিদাটুকু নিয়ে ভেবে যাওয়া এ আসলে অনেককিছুর কমতি। সেই যে পাড়া কালচার, পাশের বাড়ির কাকিমা, জেঠিমার, বারান্দার গল্প, এ বাড়ির ছাদ থেকে ও বাড়ির ছাদ সবটা হারিয়ে গিয়েই কেমন যেন বেখাপ্পা হয়ে গেলো দুনিয়াটা। সবাই আমরা কেমন খাপছাড়া হয়ে আবদ্ধ হয়ে পড়লাম স্বল্প সময়ের ভালোলাগায়, ভেতরে ভেতরে কেমন যেন আমরা সবাই একা। কথা নেই, কেবল কথার ক্ষোভ আমাদের। যে সব ভুলে তোমার শ্রোতা হবে সব ভুলে মন যেন তারই। সকলের এই প্রচণ্ড ব্যস্ততার জীবনে কেমন যেন মাকড়সার মতো জাল বুনে ফেলল এই পরকীয়া। শরীর আর মনের একটা গোপন খেলায় মেতে গেল সবটুকু, তবে মুশকিল বাঁধালো ইমোশন। সে যদি মনের গোপন চোরাকুঠুরীতে বাসা বেঁধে ফেলে তখন কিন্তু এক ফোঁটাও ভালো থাকতে দেবে না এই পরকীয়া। যোগান তখন এক্সপেক্টেশন এর ঘেরাটোপে কম মনে হতে থাকবে। সুস্থ সম্পর্কে আসবে অসুস্থতা। বিনোদনের পাল্লা কমতে থাকবে। তবু পরকীয়া বেঁচে থাক কারণ এ ক্রিয়া ফৌজদারি অপরাধ নয়। মনেরও তো মন আছে কাজেই সে যদি ছুটে যায় তো থাকনা। ভালোবাসতে আর অপবিত্রতার জায়গা কোথায় সে আলোতেই আসুক বা গোপনে  অন্ধকোণে। একই সময়ে দুজন মানুষকে ভালোবাসা যায় না ঠিকই তবে একজনের সাথে দায়বদ্ধতা আর কর্তব্য জড়িয়ে অপরজনকে নিয়ে স্বপ্নে ভাসা যায়। আর স্বপ্নে ভাসবার অধিকার প্রতিটি মানুষের আছে যাতে নেই কোনো অন্যায় বা পাপ।

(Disclaimer: Author's opinion)

No comments:

Post a Comment