।।আস্তিক।।

 Guest Column

         Buddhadeb Gorai         

by Pexels


আমি আস্তিক,  ঈশ্বরে বিশ্বাস করি।

তাই তাঁকে খুব ডাকি,

যখন হটাৎ কোন বিপদে পরি।

আমি স্বর্গ-নরক-আত্মায় বিশ্বাস করি।

তাই তো কালেভদ্রে ভালো কাজ করি,

এবং তার খুব প্রচার করি।

যাতে কর্মনীতি প্রসন্ন হয়।

আমি কর্মনীতি খুব মানি,

আমি জানি, খারাপ কাজের ফল খারাপ।

তাও সর্বদা খারাপই করি,

আর সেগুলি সযত্নে ঢেকে রাখি,

পাছে কর্মনীতি উল্লঙ্ঘন হয়।

আমি আস্তিক,  ঈশ্বরে বিশ্বাস করি।

তাই তাঁকে খুব ডাকি।

যখন হটাৎ কোন বিপদে পরি।

আমি নিজেকে অবিশ্বাস করি,

তাই অফিস আলমারিতে তালা দিয়ে

বেরোনোর সময়, অন্তত তিন-চার বার তো টানি,

দেখি ঠিক আছে নাকি।

আমি আমার গর্ভধারীনি মা কেও অবিশ্বাস করি

তাই তাঁকে অনেক মিথ্যা বলে, বোকা ভেবে,

সবশেষে নিজেই ফাঁদে পরি।

আমি আমার প্রিয়তমাকেও অবিশ্বাস করি,

তাই বাল্য-বন্ধুকেও বাইরে দেখা করি।

ভিতরে আসতে বলিনা, প্রয়োজনে ফোন করি।

আমি আমার প্রিয় বন্ধুকেও অবিশ্বাস করি,

তাই বিপদে পরলে তাকে ফোন করি।

সে বিপদতারণ হয়ে আসে, পাশে বসে।

গল্প করে, সাহস দেয় এবং ভালোবাসে।

কিন্তু আমি আস্তিক, ঈশ্বরে বিশ্বাস করি

তাই তাঁকে খুব ডাকি,

যখন হটাৎ কোন বিপদে পরি।

Dreams - a poem

Ishika Mitra

MAJMC Sem 2 

Pexels

My dreams are made of lilies

That bloom in the depths of the night

Under the moon and the starry skies

In the charm of the bright citylights.

 

My dreams are made of music

That soothes the soul in the dark

Every chord lights a spark

Like the songs of a passing skylark.

 

My dreams are made of memories

They bind me close to you

In the old pages, never new.

Memories by the millions, never few.

 

But, they break in the morn

Like a glass in shards

They pierce deep and sharp and hard.

They mix in my blood,

Like a rock in my heart

In the flames that’ve left me charred.

 

 

ভবিষ্যতের ভাবনা ও মূল্যবোধের সন্ধানে: দর্শনশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষার সম্ভাবনা

In Search of Future Thinking and Values: The Possibilities of Higher Education in Philosophy

 Guest Column

Buddhadeb Gorai

Assistant Professor in Philosophy, Deshbandhu College for Girls, Calcutta University

Pexels

ভাবনার ভিত্তি প্রস্তুতীর সময়: কেন পড়বেন দর্শনশাস্ত্র?

আমরা সবাই জানি, জীবনের দৌড়ে কে আগে পৌঁছবে, তা আজকের সমাজে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই দৌড় কোথায় যাচ্ছে? কেন দৌড়াচ্ছি আমরা? দৌড়ের শেষে কী আছে? এই প্রশ্নগুলো আমরা ক’জন করি?

ঠিক এখানেই দর্শনশাস্ত্রের আবির্ভাব। দর্শনশাস্ত্রের ‘দর্শন’ শব্দটির মধ্যেই আছে জগতকে অন্য চোখে দেখার এক আমন্ত্রণ। দর্শনশাস্ত্রের ইংরাজী প্রতিশব্দ হল ‘Philosophy’ এই শব্দটির অর্থই হচ্ছে—‘জ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা’। এটি এমন একটি বিষয়, যা কেবল তথ্যভিত্তিক পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং শেখায় কিভাবে ভাবতে হয়। আজকের জটিল ও বিভ্রান্তিকর সমাজ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় একজন চিন্তাশীল, যুক্তিনিষ্ঠ, ন্যায়ের প্রতি দায়বদ্ধ মানুষ হয়ে ওঠা খুব জরুরি। দর্শনশাস্ত্র সেই মানসিক কাঠামো গড়ে তোলে, যেখানে কেবল উত্তর নয়—সঠিক প্রশ্ন করাও একধরনের শক্তি।

 “Philosophy” মানে শুধু ভাবুকদের প্রাচীন তত্ত্ব নয়—এ হল চিন্তা করার সাহস, প্রশ্ন করার অধিকার, ন্যায়ের পাশে দাঁড়ানোর শক্তি, যুক্তিকে শ্রদ্ধা করার সংস্কৃতি। দর্শনশাস্ত্র জিজ্ঞাসা করে—“আমি কে?”, “আমি কীভাবে জানব, যে আমি যা জানি তা সত্য?”, “সত্য কী?”, “নৈতিকতা কোথা থেকে আসে?”, “একটি রাষ্ট্র কেমন হওয়া উচিত?” — এমন অসংখ্য গভীর প্রশ্নের পথ দেখায় দর্শনশাস্ত্র।

আজ যখন বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির জোয়ার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট, তখন মানুষের অন্তর্জ্ঞান, নৈতিকতা ও মূল্যবোধকে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। দর্শনশাস্ত্র আমাদের সেই আলো দেয়—যে আলো শুধু চাকরি পাওয়ার পথ নয়, বরং একজন মানুষ হিসেবে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠার পথ দেখায়।

এটি এমন একটি বিষয় যেখানে ‘কেন’ প্রশ্নটি সবচেয়ে বড়। কেন আমি এই কাজটি করব? কেন আমি এই নিয়ম মানব? দর্শনশাস্ত্র আমাদের শেখায়—যথাযথ যুক্তির ভিত্তিতে জীবনকে গড়ে তুলতে। যারা নৈতিকভাবে সচেতন নাগরিক হতে চান, সমাজ নিয়ে ভাবেন, রাষ্ট্রনীতি নিয়ে প্রশ্ন করতে চান, এবং জীবনের অর্থ নিয়ে চিন্তায় মগ্ন হতে ভালোবাসেন—তাদের কাছে দর্শনশাস্ত্র এক অপার সম্ভাবনার জগৎ।

দর্শনশাস্ত্র পড়লে কী শেখা যায়?

জ্ঞান শুধু তথ্যের সঞ্চয় নয়, বরং জগতকে বুঝে ওঠার একটি শিল্প। দর্শনশাস্ত্র সেই শিল্পের ভিত্তি—যা আমাদের ভাবতে শেখায়, প্রশ্ন তুলতে শেখায় এবং মানবিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সাহায্য করে। নিচে দেওয়া হলো দর্শনশাস্ত্র অধ্যয়নের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্দৃষ্টি:

১. বিশ্লেষণাত্মক চিন্তাভাবনা (Critical Thinking)
দর্শনশাস্ত্র আমাদের শেখায়—কিভাবে প্রশ্নকে ভাঙতে হয়, যুক্তিকে সাজাতে হয়, এবং প্রতিটি চিন্তার কাঠামোকে পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করতে হয়। যুক্তিবিদ্যা (Logic), জ্ঞানতত্ত্ব (Epistemology), নীতিশাস্ত্র (Ethics), সমাজ ও রাষ্ট্রদর্শনের (Social and Political Philosophy) মতো শাখাগুলি শেখায় কিভাবে একটি ভাবনার ভিতরেই লুকিয়ে থাকে বহু স্তর এবং বিকল্প পাঠ।
এটি একজন শিক্ষার্থীকে করে তোলে তীক্ষ্ণ বিশ্লেষক, যে যেকোনো তথ্য বা পরিস্থিতিকে বৌদ্ধিক ও বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবতে পারে।

২. নৈতিক স্পষ্টতা ও বিচারক্ষমতা (Moral Clarity & Judgement)
"বিজ্ঞান বলে কী করা সম্ভব, দর্শনশাস্ত্র বলে কী করা উচিত।"
এই কথার মূলে রয়েছে দর্শনশাস্ত্রের নৈতিক ও নীতিভিত্তিক গভীরতা। সমকালীন সমাজে যখন আমরা প্রতিনিয়ত দ্বন্দ্ব, সংকট ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হই, তখন দর্শনশাস্ত্র আমাদের বিবেক ও নৈতিক বোধকে দৃঢ় করে তোলে।

চিকিৎসা, প্রযুক্তি, পরিবেশ, অর্থনীতি বা রাজনীতি—সবখানেই ন্যায়ের প্রশ্নে, অধিকার ও দায়বদ্ধতার জায়গায় দর্শনশাস্ত্রের অনুশীলন একজন মানুষকে পরিণত করে সচেতন ও দায়িত্ববান নাগরিক হিসেবে।

৩. প্রশ্ন করার সাহস (The Courage to Question)
"সত্য কেবল খোঁজার বস্তু নয়, প্রশ্নের মধ্য দিয়েই তা জন্ম নেয়।"
দর্শনশাস্ত্র এমন এক চর্চা যা আত্মা, ঈশ্বর, জগত, সময়, পরিণতি, অধিকার, দায়—এইসব মৌলিক প্রশ্নগুলোর দিকে আমাদের দৃষ্টি ফেরায়।
দর্শনশাস্ত্র শেখায়—প্রতিষ্ঠিত ধারণা মানেই চূড়ান্ত নয়। তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার, তার যৌক্তিকতা যাচাই করার এবং কখনও তাকে অস্বীকার করার সাহস তৈরি করাও একধরনের জ্ঞানচর্চা।
এই প্রশিক্ষণ একজন মানুষকে করে তোলে গভীর, ন্যায়নিষ্ঠ ও চিন্তাশীল—যে কেবল উত্তর জানে না, বরং সঠিক প্রশ্ন করতে পারে।

আজকের পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে দর্শনশাস্ত্র এমন এক মননচর্চার ক্ষেত্র, যা শিক্ষার্থীদের কেবলমাত্র চাকরি পাওয়ার যোগ্য করে তোলে না, বরং চিন্তাশীল, বিবেকবান, ও মানবিকভাবে দায়বদ্ধ মানুষ হয়ে ওঠার পথ দেখায়।

দর্শনশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগসুবিধা:

আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে শুধু ভালো চাকরি পাওয়াই নয়, মানুষের উচিত হয়ে উঠছে আত্মপরিচয়ের অন্বেষণ, ন্যায়বোধের নির্মাণ এবং যুক্তিনিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন। এই পরিপ্রেক্ষিতে দর্শনশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা যেন জীবনের অন্তঃস্বরের একটি গভীর অনুশীলন, একটি অন্তর্জগতে প্রবেশ।

দর্শনশাস্ত্র কেবল একটি বিষয় নয়, এটি ভাবনার একটি অভ্যাস, নৈতিকতার একটি অনুশীলন, এবং জীবনের প্রতিটি প্রশ্নকে জিজ্ঞাসা করার এক সাহসী পন্থা। তাই দর্শনশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুবিধাগুলি বহুমাত্রিক ও গভীরতর:

১. চিন্তার শুদ্ধতা ও যুক্তির দীপ্তি
দর্শনশাস্ত্র শেখায় কীভাবে চিন্তা করতে হয়। এটি একধরনের ‘মননশীল ব্যায়াম’, যা বুদ্ধির শাণিত ব্যবহার এবং যুক্তির প্রাঞ্জল প্রয়োগ ঘটায়। দর্শনশাস্ত্রের ছাত্রছাত্রীরা যে কোনো সমস্যাকে বিশ্লেষণ করে দেখার, এবং নানা দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করার অনন্য ক্ষমতা অর্জন করে।

২. নৈতিকতা ও মূল্যবোধের ভিত্তি নির্মাণ
জীবনের কোন পথে চলা উচিত? কী করলে তা ন্যায়সঙ্গত হয়?—এইসব প্রশ্ন দর্শনশাস্ত্রের প্রাণ। নৈতিকতা (Ethics), দায়বদ্ধতা, কর্তব্যবোধ ও মানবিক বিবেক দর্শনশাস্ত্রের ছাত্রদের ভেতর গড়ে ওঠে এক অবিচল মেরুদণ্ডের মতো। আজকের সমাজে এমন নৈতিক মানুষ সবচেয়ে জরুরি।

৩. উচ্চতর গবেষণার অবারিত সুযোগ
দর্শনশাস্ত্রশাস্ত্রে অনার্স করার পর MA, M.Phil (Just Obsolate), Ph.D-এর পথ খোলা রয়েছে। দর্শনশাস্ত্রের গবেষণা শুধু প্রাচীন পাণ্ডিত্যচর্চা নয়—সমাজ, প্রযুক্তি, পরিবেশ, জেন্ডার, রাজনীতি ও বিজ্ঞানের নৈতিক প্রশ্নগুলিও আজ দর্শনশাস্ত্রের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত। ভারতের নানান বড় ছোট বিশ্ববিদ্যালয় (JNU, DU, JU, BU, CU, Presidency, Visva-Bharati) এবং কিছু সামাজিক প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়ের গবেষণার দিগন্ত বিস্তৃত। এছাড়াও বহির্বিশ্ব তো আছেই ।

৪. শিক্ষকতা ও একাডেমিক ক্যারিয়ার
UGC-NET ও SET উত্তীর্ণ হয়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা একটি মর্যাদাপূর্ণ পথ। পাশাপাশি স্কুল পর্যায়ে দর্শনশাস্ত্র, যুক্তিবিদ্যা, নৈতিকতা ও মনোবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবেও উচ্চ চাহিদা রয়েছে। লেখাপড়ার প্রতি যাদের ভালোবাসা, তাদের জন্য এটি শ্রেষ্ঠ পথ।

৫. প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার দৃঢ় সহায়
IAS, IPS, WBCS, PSC, SSC-এর মতো পরীক্ষায় দর্শনশাস্ত্র একটি অত্যন্ত scoring ও বিশ্লেষণভিত্তিক বিকল্প বিষয়। নৈতিকতা, যুক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তা দর্শনশাস্ত্রের মূল বিষয় হওয়ায় এই পরীক্ষাগুলিতে এটি বিশেষ সুবিধা এনে দেয়।

৬.সাংবাদিকতা, লেখালেখি ও চিন্তানায়ক হবার পথ
দর্শনশাস্ত্রশাস্ত্রের শিক্ষার্থীরা হয়ে ওঠেন সমাজমনস্ক চিন্তক, দার্শনিক প্রাবন্ধিক, মানবিক সাংবাদিক। বিশ্লেষণধর্মী লেখায়, সামাজিক প্রশ্ন উত্থাপনে, এবং বাস্তবতাকে মানবিক দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা করতে তাদের ভূমিকা অপরিহার্য।

৭. নীতিনির্ধারণ, এনজিও ও মানবাধিকার ক্ষেত্রে
রাষ্ট্রনীতি, জেন্ডার ন্যায়, পরিবেশ নৈতিকতা বা প্রযুক্তির দায়বদ্ধতা—এসব ক্ষেত্রে দর্শনশাস্ত্রের ছাত্রদের বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত কার্যকর। Amnesty International, UN, Oxfam-এর মতো সংস্থায় তাঁদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ।

৮. কর্পোরেট ও প্রযুক্তিখাতে নৈতিক পরামর্শদাতা
বিজ্ঞান যত দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে, নৈতিক প্রশ্ন ততটাই জটিল হয়ে উঠছে। দর্শনশাস্ত্রের জ্ঞান ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি নৈতিকতা (AI Ethics, Bioethics), কর্পোরেট নীতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে আজ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বহু কর্পোরেট সংস্থাই এখন দর্শনশাস্ত্রের ছাত্রদের নিয়োগ দিচ্ছে নীতি ও সংকট পর্যালোচনার কাজে।

শেষকথা:

শেষমেশ দর্শনশাস্ত্র আমাদের শেখায়—‘কে আমি? কেন আমি ভাবি? কী করলে তা ন্যায়ের পথে পড়ে?’ এইসব মৌলিক প্রশ্নের দিকে তাকিয়ে থাকাটাই তো আমাদের মনুষ্যত্বের পরিচয়। যারা শুধু চাকরি নয়, একটি গভীর জীবনবোধের সঙ্গে বেড়ে উঠতে চান, তাদের জন্য দর্শনশাস্ত্র এক আত্মিক ও জাগতিক দু’পথেই আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠে।

এমন এক সময়ে যখন “চাকরি” আর “নিরাপত্তা” হয়ে উঠছে শিক্ষার একমাত্র মানদণ্ড, তখন দর্শনশাস্ত্র বলছে—"ভাবো, প্রশ্ন করো, বুঝে ওঠো, কারণ তবেই তুমি সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠতে পারো।"

দর্শনশাস্ত্রের ছাত্র হওয়া মানে কেবল শিক্ষিত হওয়া নয়, বরং একজন ‘চিন্তাশীল মানুষ’ হয়ে ওঠার সাহস নেওয়া।আজকের সময়ে ‘ফলাফল’ নয়, ‘ভিত্তি’ গড়ে তোলা জরুরি। দর্শনশাস্ত্র এমন একটি বিষয়, যা একজন মানুষকে শুধু কর্মজীবনে নয়—জীবনবোধেও পরিণত করে। যখন চারপাশে তথ্যের জঙ্গল, তখন সত্যের খোঁজে যুক্তিনিষ্ঠ চিন্তার পাঠ শেখায় দর্শনশাস্ত্র। তাই উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর, যারা জীবন ও জগত নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে চান, ন্যায় ও সত্যের দিকচিহ্ন অনুসরণ করে চলতে চান—তাদের জন্য দর্শনশাস্ত্র এক অনোন্য ও প্রাসঙ্গিক পথ।

এই সময়ে, যখন জীবনের লক্ষ্য  চাকরি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে  একটি অর্থপূর্ণ জীবন, তখন দর্শনশাস্ত্রের মতো বিষয় হবে একটি অনন্য উপহার। তাই সদ্য উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের বলব—ভবিষ্যতের জন্য ভাবুন, নিজের মধ্যে ভাবনার সঞ্চার হোক, নিজের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি হোক—এই সবকিছুর জন্য দর্শনশাস্ত্র একটি শক্তিশালী পথ।ভাবুন, প্রশ্ন করুন, চিন্তা করুন—আর দর্শনশাস্ত্রের পথ বেছে নিন।এই সময়টাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার। নিজেকে জানতে হলে, সমাজকে বদলাতে হলে, চিন্তাকে শাণিত করতে হলে—‘দর্শনশাস্ত্র’ হোক তোমার জ্ঞানযাত্রার শুরু।

WhatsApp Image 2025-05-15 at 7.18.06 PM (1).jpeg

দর্শনশাস্ত্রশাস্ত্রে অনার্সসহ বিএ-এর পর উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের সম্ভাব্য পথ
— ভাবনার শক্তি থেকে পেশাগত পরিণতি

ধাপ ১: B.A. with Philosophy Honours (দর্শনশাস্ত্র অনার্স সহ বি.এ.)
এই স্তরেই গড়ে ওঠে যুক্তি, বিশ্লেষণ, নৈতিকতা ও মননশীলতার ভিত্তি।

B.Ed. (বি.এড.) সম্পন্ন করলে:
বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা (School Teaching – মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে) 
SSC(School Service Commission)-এর মাধ্যমে সরকার অনুমোদিত স্কুলে চাকরি 

মনস্তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ ও শংসাপত্র নিলে:
মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শদাতা (Psychological Counsellor) 
NGO, কর্পোরেট অথবা স্বনির্ভর পরামর্শক হিসেবে কাজ 

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় দর্শনশাস্ত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
WBCS(West Bengal Civil Service Commission), IAS(Indian Administrative Service) সহ অন্যান্য রাজ্যের  সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বিকল্প বিষয় হিসেবে দর্শনশাস্ত্রের বিশাল চাহিদা অনেক এছাড়াওনৈতিকতা, যুক্তিবিদ্যা ও সামাজিক ভাবনার পটভূমিতে এগিয়ে থাকা সম্ভব 

ধাপ ২: M.A. in Philosophy (দর্শনশাস্ত্রে স্নাতকোত্তর)
এখানে চিন্তা আরও গভীর হয়, গড়ে ওঠে গবেষণার প্রবণতা ও বিশ্লেষণমূলক দক্ষতা।

ধাপ ৩:
কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সম্ভাবনা
CSC (College Service Commission) বা PSC (Public Service Commission)-এর মাধ্যমে নিয়োগ 
দর্শনশাস্ত্র বিষয়ে অধ্যাপনা, গবেষণা ও পঠন-পাঠনকেন্দ্রিক ক্যারিয়ার 

ধাপ ৪: Ph.D.
গবেষণামূলক শিক্ষার এই স্তর আপনাকে ভাবনায় নেতৃত্বদাতা করে তোলে।
ন্যায়নীতি, রাজনৈতিক দর্শনশাস্ত্র, ফেমিনিজম, পরিবেশ নৈতিকতা, দর্শনশাস্ত্রশাস্ত্রের ইতিহাস ইত্যাদিতে গবেষণা 
আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ ও রিসার্চ ফেলোশিপের সুযোগ 

ধাপ ৫:
NET / SET উত্তীর্ণ হলে:
ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে স্থায়ী অধ্যাপনার পথ উন্মুক্ত 
Junior Research Fellowship (JRF) প্রাপ্তির সম্ভাবনা 

ধাপ ৬:
বিভিন্ন সামাজিক বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, গবেষণা সংস্থা ও কল্যাণ পরিষেবায় চাকরি
যেমনঃ Indian Council of Philosophical Research (ICPR), ICSSR, NGOs, থিংক ট্যাঙ্ক, শিক্ষা ও উন্নয়ন সংস্থা 
নীতিনির্ধারণ, মানবাধিকার, পরিবেশ, জেন্ডার, শিক্ষা, সংস্কৃতি সংক্রান্ত প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা 

----